ভিয়েতনামের বাজারে বেশ কয়েক দিন ধরেই কমছে কফির দাম। চলতি সপ্তাহেও তা অব্যাহত আছে। দেশটির বাজারে এ সময় প্রতি কেজি কফির দাম ১ লাখ ডংয়ের (৩ ডলার ৮৩ সেন্ট) নিচে নেমে এসেছে। গতকাল ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক কফির দামে তীব্র পতন ও সীমিত সরবরাহের কারণে বেচাকেনা কমে যাওয়া দাম বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডসে চলতি সপ্তাহে কৃষকরা প্রতি কেজি কফি ৯৪ হাজার ৫০০ থেকে ৯৫ হাজার ডং (প্রায় ৩ ডলার ৬২ সেন্ট থেকে ৩ ডলার ৬৪ সেন্ট) দরে বিক্রি করেছেন, এর আগের সপ্তাহে যা ছিল কেজিপ্রতি ১ লাখ ৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৩ হাজার ৫০০ ডং।
কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলের একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘এ মুহূর্তে সর্বনিম্ন দাম নির্ধারণ করে দেয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। কিছু কৃষক এখনো মজুদ থেকে বাজারে কফি ছাড়েননি। বর্তমানে দাম কমে যাওয়ায় মজুদ থেকে বাজারে কফি সরবরাহের সম্ভাবনা আরো কম।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বৈশ্বিক কফি উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় ৪৩ লাখ ব্যাগ বেড়ে (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) ১৭ কোটি ৮৭ লাখ ব্যাগে পৌঁছাবে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। এ সময় বিশ্বব্যাপী কফি ব্যবহারের পরিমাণও রেকর্ড বেড়ে ১৬ কোটি ৯৪ লাখ ব্যাগে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
এদিকে ব্যবসায়ীরা ৫ শতাংশ কালো ও ভাঙা গ্রেড-২ প্রতি টন রোবাস্তা কফি সেপ্টেম্বরের এলআইএফএফই চুক্তির তুলনায় ১৪০-১৬৫ ডলার মূল্য সংযোজন করে অফার করেছেন, এর আগের সপ্তাহে যা ছিল টনপ্রতি ১০৯-১২৯ ডলার।
ইন্দোনেশিয়ায় সুমাত্রায় রোবাস্তা কফি চলতি সপ্তাহে সেপ্টেম্বরের চুক্তির তুলনায় প্রতি টনে ৩৩০ ডলার মূল্য সংযোজন করে বিক্রি হয়েছে, গত সপ্তাহে যা ছিল টনে ২৩৫ ডলার। এ বিষয়ে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘লন্ডন বাজারে তীব্র দরপতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এ মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।’